আজ ৫ রমজান। রমজান মাস আত্মসংযম, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির মাস। তবে কর্মজীবী মানুষের জন্য অফিসে দীর্ঘ সময় কাজের পাশাপাশি রোজা রাখা কখনও কখনও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তবে সঠিক পরিকল্পনা এবং মানসিক প্রস্তুতি থাকলে অফিস করার সাথে সাথে রোজা পালনও সহজ হতে পারে।
প্রথমত, ঘুমের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। তারাবির নামাজ শেষ হলে সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। তারাবি ও সেহরির কারণে ঘুমের সময় কমে যেতে পারে, তাই সময় ব্যবস্থাপনা করে অন্তত ছয়-সাত ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়া উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে অফিসে মনোযোগ কমে যায় এবং ক্লান্তি বেড়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, সেহরিতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিনজাত খাবার যেমন ডিম, দই বা বাদাম শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
তৃতীয়ত, কাজের লিস্ট তৈরি করে কাজ ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। সকালে এনার্জি তুলনামূলক বেশি থাকে, তাই গুরুত্বপূর্ণ ও ভারী কাজগুলো দিনের প্রথম ভাগে শেষ করার চেষ্টা করুন। বিকেলের দিকে হালকা বা কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ রাখা ভালো।
চতুর্থত, মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা জরুরি। রোজা শুধু খাবার থেকে বিরত থাকা নয়; এটি রাগ, বিরক্তি ও নেতিবাচক আচরণ নিয়ন্ত্রণের অনুশীলন। অফিসে অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে চলা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করা উচিত।
পঞ্চমত, পকেটে একটি তাসবীহ রাখুন। ছোট বিরতিতে জিকির বা নীরব ধ্যান মনকে শান্ত রাখতে সহায়ক হতে পারে। বাসা থেকে অফিসে যাবার পথে বাসে বা পরিবহনে বসে অযথা গাল-গল্প ও মুখরোচক আলোচনা না করে ছোট-খাট জিকির করুন।
ষষ্ঠত, ইফতারের প্রস্তুতি আগে থেকেই রাখা ভালো। অফিসে থাকলে ব্যাগে খেজুর ও পানির বোতল রাখা যেতে পারে, যাতে সময়মতো ইফতার করা যায়। যানজট বা দেরি এড়াতে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা সুবিধাজনক। মনে রাখতে হবে-সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। রমজান আমাদের সময় ব্যবস্থাপনা, ধৈর্য ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়। সঠিক প্রস্তুতি ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে অফিসে রোজা পালন করলে এই পবিত্র মাস কর্মজীবনেও নতুন অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে।
খুলনা গেজেট/এনএম

